কম্পিউটার সফটওয়্যারের মৌলিক ধারণা সমূহ - Nishibd.com | Know For Sharing

কম্পিউটার সফটওয়্যারের মৌলিক ধারণা সমূহ

হ্যালো বন্ধুরা কেমন আছেন আপনারা সবাই?আশা করি সবাই ভালোই আছেন।ভালো আছেন ভালো থাকবেন এই প্রত্যাশাই  সবসময় করি।আমি আজ আপনাদের নতুন একটি বিষয় নিয়ে চলে আসলাম।আজ আমি আপনাদের মাঝে কম্পিউটার সফটওয়্যারের মৌলিক ধারণা সমূহ নিয়ে আলোচনা করবো।আশাকরি সবাই মনোযোগ নিয়ে পড়বেন।তো চলুন এবার শুরু করা যাক।



সফটওয়্যার কি:
সফটওয়্যার বলতে আমরা সাধারণ কম্পিউটারের প্রোগ্রাম সমূহকে বুঝে থাকি। একগুচ্ছ প্রোগ্রাম বা প্রোগ্রামের সমষ্টি যা কম্পিউটারের হার্ডওয়্যার ও ব্যবহারকারীর মাধ্যমে যোগসূত্র স্থাপনের মাধমে হার্ডওয়্যারকে কার্যক্ষম উপযোগী করে তোলে তাকে সফটওয়্যার বলে। অতি সহজভাবে বলতে গেলে একগুচ্ছ প্রোগ্রাম বা প্রোগ্রামের সমষ্টিকে সফটওয়্যার বলে। হার্ডওয়্যার কম্পিউটিং এর কাজ সমূহ করে এবং সফটওয়্যার কম্পিউটার পরিচালনা করে। হার্ডওয়্যার ছাড়াও সফটওয়্যার চলতে পারে।কিন্তু সফটওয়্যার ছাড়া হার্ডওয়্যার কখনোই চলতে পারেনা। সফটওয়্যার ব্যবহারকারী এবং হার্ডওয়্যারের মধ্যে যোগসূত্র স্থাপন করে।


ব্যবহারভেদে সফটওয়্যারকে দুই ভাগে ভাগ করা যায়। নিচে তাদের আলোচনা করা হল। যথা:

১. সিস্টেম সফটওয়্যার।
২. অ্যাপ্লিকেশন সফটওয়্যার।

১. সিস্টেম সফটওয়্যার:
কম্পিউটারকে ব্যবহার উপযোগী করার জন্য এবং কম্পিউটারের হার্ডওয়্যার ও অ্যাপ্লিকেশন প্রোগ্রাম সমূহকে কার্যকর রাখার জন্য বিভিন্ন ধরনের সফটওয়্যার তৈরি করে প্রয়োগ করা হয় যাকে সিস্টেম সফটওয়্যার বলে। সিস্টেম সফটওয়্যার হল কতকগুলো প্রোগ্রাম বা প্রোগ্রামের সমষ্টি যার মাধ্যমে কম্পিউটারকে সচল রাখা,পরিচালনা ও নিয়ন্ত্রণের কার্যাবলী সম্পাদন করা হয়। সিস্টেম সফটওয়্যার কম্পিউটারের বিভিন্ন অংশের মধ্যে সমন্বয় সাধন করে থাকে। সিস্টেম সফটওয়্যার কম্পিউটার পরিচালনা ও রক্ষণাবেক্ষণের কাজে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে থাকে। সিস্টেম সফটওয়্যার, বিভিন্ন ধরনের অ্যাপ্লিকেশন সফটওয়্যার সমূহ তৈরি করতে সাহায্য করে ও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। সিস্টেম সফটওয়্যার অনেক ধরনের হয়ে থাকে। সিস্টেম সফটওয়্যার কোন ধরনের কম্পিউটার উপযোগী করে তৈরি করা হলে তা অন্যকোন কম্পিউটারে ব্যবহার করা যাবেনা।অন্য কোন কম্পিউটারে ব্যবহার করতে হলে এ সফটওয়্যারকে পরিবর্তন করে সেই কম্পিউটারের ব্যবহার উপযোগী করে নিতে হবে।
কয়েকটি সিস্টেম সফটওয়্যার উদাহরণ হল: Windows 95/200, Windows Vista, Windows Xp, Windows 7, Windows 8/8.1, Windows 10, Linux


সিস্টেম সফটওয়্যারকে প্রধানত তিন ভাগে ভাগ করা যায়। যথা:

ক. সিস্টেম ম্যানেজমেন্ট প্রোগ্রাম বা নিয়ন্ত্রণ প্রোগ্রাম।
খ. সিস্টেম সাপোর্ট প্রোগ্রাম বা সিস্টেম সহায়ক প্রোগ্রাম।
গ. সিস্টেম ডেভেলপমেন্ট প্রোগ্রাম বা সিস্টেম উন্নয়ন প্রোগ্রাম।



ক. সিস্টেম ম্যানেজমেন্ট প্রোগ্রাম বা নিয়ন্ত্রণ প্রোগ্রাম:
সিস্টেম ম্যানেজমেন্ট প্রোগ্রাম বা নিয়ন্ত্রণ প্রোগ্রাম দিয়ে কম্পিটারের হার্ডওয়্যার,সফটওয়্যার,ডেটা এবং নেটওয়ার্কিং ব্যবস্থাপনার সমূহের নিয়ন্ত্রণ কার্যাবলী সম্পাদন করা যায় বলে একে সিস্টেম ম্যানেজমেন্ট প্রোগ্রাম বা নিয়ন্ত্রণ প্রোগ্রাম বলা হয়।
অপারেটিং সিস্টেম,ডেটাবেস ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম এবং নেটওয়ার্ক ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম প্রোগ্রাম সমূহ নিয়ে সিস্টেম ম্যানেজমেন্ট প্রোগ্রাম বা নিয়ন্ত্রণ প্রোগ্রাম গঠিত হয়।



খ. সিস্টেম সাপোর্ট প্রোগ্রাম বা সিস্টেম সহায়ক প্রোগ্রাম:
যে প্রোগ্রাম বা সিস্টেমের সাহায্যে কম্পিউটার ব্যবহারকারী সার্ভিস প্রোগ্রাম,নিরাপত্তা প্রদানের প্রোগ্রাম এবং কাজের হিসাব-নিকাশসহ ইত্যাদি যাবতীয় কাজ সম্পাদন করতে পারে তাকে সিস্টেম সাপোর্ট প্রোগ্রাম বা সিস্টেম সহায়ক প্রোগ্রাম বলে।
সিস্টেম ইউটিলিটি প্রোগ্রাম,সিস্টেম পারফরমেন্স প্রোগ্রাম,সিস্টেম সিস্টেম সিকিউরিটি মনিটর প্রোগাম ইত্যাদির সমন্বয়ে সিস্টেম সাপোর্ট প্রোগ্রাম বা সিস্টেম সহায়ক প্রোগ্রাম গঠিত হয়।


গ. সিস্টেম ডেভেলপমেন্ট প্রোগ্রাম বা সিস্টেম উন্নয়ন প্রোগ্রাম:
ব্যবহারকারী সমস্যা সমাধান এবং কম্পিউটারকে অধিকতর ব্যবহার উপযোগী করে তোলার উদ্দেশ্যে সিস্টেম ডেভেলপমেন্ট প্রোগ্রাম বা সিস্টেম উন্নয়ন প্রোগ্রাম সমূহ ব্যবহার করা হয়।
প্রোগ্রামিং ল্যাংগুয়েজ ট্রান্সলেট বা প্রোগ্রামিং ভাষা অনুবাদক, প্রোগ্রামিং এডিটর এবং টুলস বা ব্যবহারিক প্রোগ্রাম উন্নয়ন পদ্ধতি এবং কম্পিউটার সহায়তাকারী সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ারিং প্যাকেজ ইত্যাদি প্রোগ্রাম সমূহ নিয়ে সিস্টেম ডেভেলপমেন্ট প্রোগ্রাম বা সিস্টেম উন্নয়ন প্রোগ্রাম গঠিত হয়।


২. অ্যাপ্লিকেশন সফটওয়্যার:
কম্পিউটার ব্যবহারকারী চাহিদা অনুযায়ী বা ব্যবহারকারীর সমস্যা সমাধান এবং ডাটা প্রক্রিয়াকরণের উদ্দেশ্যে সফটওয়্যার উৎপাদকারী প্রতিষ্ঠান যে ধরনের সফটওয়্যার উৎপাদ ও বাজারজাতকরণ করে থাকে তাকে অ্যাপ্লিকেশন সফটওয়্যার বলে। আর এসকল বাজারজাতকৃত সফটওয়্যার ব্যবহারকারী তাদের সমস্যা ও প্রয়োজন অনুযায়ী বাজার থেকে ক্রয় করে থাকে।

অ্যাপ্লিকেশন সফটওয়্যার আবার দুইভাগে ভাগ করা যায়:

ক. সাধারণ অ্যাপ্লিকেশন সফটওয়্যার।
খ. সুনির্দিষ্ট অ্যাপ্লিকেশন সফটওয়্যার।


ক. সাধারণ অ্যাপ্লিকেশন সফটওয়্যার:
কম্পিউটার ব্যবহারকারী দৈনন্দিন জীবনের গুরুত্বপূর্ণ সাধারণ কাজগুলো বা কম্পিটারের ব্যবহারিক সমস্যা সমাধানের জন্য যে সমস্ত সফটওয়্যার বা প্রোগ্রাম সমূহ তৈরি করা হয় তাকে সাধারণ অ্যাপ্লিকেশন সফটওয়্যার বলে। এসকল সফটওয়্যার দিয়ে কম্পিউটার ব্যবহারকারী তাদের দৈনন্দিন জীবনের ছোট বড় কাজ এবং নানা ধরনের সমস্যার সমাধান করে থাকে।
নিচে কয়েকটি সাধারণ অ্যাপ্লিকেশন সফটওয়্যারের নাম দেয়া হল:
Microsoft Office, Microsoft Word, Microsoft Excel, Microsoft Power point, Adobe Photosop, Adobe illustrator, Internet Explorer, Processing Lotus, Windows Media, Email ইত্যাদি।



খ. সুনির্দিষ্ট অ্যাপ্লিকেশন সফটওয়্যার:
কম্পিউটার ব্যবহারকারী কোন বিশেষ কাজের জন্য বা সুনির্দিষ্ট কোন সমস্যার সমাধানের জন্য যে সফটওয়্যার তৈরি করা হয় বা ব্যবহার করা হয় তাকে সুনির্দিষ্ট অ্যাপ্লিকেশন সফটওয়্যার বলে। কম্পিউটার ব্যবহারকারীগণ এধনের সফটওয়্যারগুলো তাদের নির্দিষ্ট কোন কাজের জন্য প্রস্তুত করে এবং তাদের সেই উক্ত কাজে ব্যবহার করে থাকে।
উদাহরণস্বরূপ- বড় বড় বিপনী বিতানগুলোতে হিসাব নিকাশ রাখার জন্য ব্যবহৃত প্রোগ্রাম সমূহ। একাউন্টিং হিসাব নিকাশের কাজে ব্যবহৃত বিভিন্ন একাউন্টিং সফটওয়্যার। ইকমার্স সফটওয়্যার, পে-রোল সিস্টেম,টিকেট বুকিং সফটওয়্যার, মজুরি বিল প্রদান সংক্রান্ত প্রোগ্রাম,বৈজ্ঞানিক গবেষণার ক্ষেত্রে ব্যবহৃত বিভিন্ন সফটওয়্যার ইত্যাদি।


সফটওয়্যার স্যুটস বা প্যাকেজ সফটওয়্যার:
সফটওয়্যার প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠান কর্তৃক, কম্পিউটার ব্যবহারকারীর নানাবিধ সমস্যা সমস্যা সমাধান করার জন্য বাণিজ্যিক ভাবে নানা ধরনের প্রোগ্রাম তৈরি করে থাকে তাকে সফটওয়্যার স্যুটস বা প্যাকেজ সফটওয়্যার বলে। সফটওয়্যার স্যুটস বা প্যাকেজ সফটওয়্যার হল এমন একটি প্যাকেজ প্রোগ্রামের সমষ্টি যেখানে একাধিক প্রোগ্রাম সমূহ একটি প্যাকেজ পোগ্রামের অধীনে সংযুক্ত করা থাকে। অন্যান্য পোগ্রামের মধ্যে যেসকল অপশন থাকে যেমন নতুন ফাইল ওপেন,বন্ধ করা, সেভ বা সংরক্ষণ করা ইত্যাদি সফটওয়্যার স্যুটস বা সব প্রোগ্রামের ক্ষেত্রে একই রকম থাকে। আলাদা আলাদা সফটওয়্যার কিনতে অনেক খরচ হয় কিন্তু সফটওয়্যার স্যুটস এর মধ্যে সকল প্রোগ্রাম একসাথে তবে এধরনের সফটওয়্যার কিনতে তুলনামূলক কম খরচ হয়।


ফার্মওয়্যার:
ফার্মওয়্যার হল এক বিশেষ ধরনের সফটওয়্যার। কম্পিউটার তৈরির সময় কম্পিউটারের স্মৃতিতে কিছু ডেটা ও প্রোগ্রাম স্থায়ীভাবে সংরক্ষণ করে দেয়া হয় একে ফার্মওয়্যার বলে। ফার্মওয়্যার শুধু ব্যবহার করা যায়। এর প্রোগ্রাম সমূহ পরিবর্তন,পরিবর্ধন বা মুছে ফেলা যায়না। কম্পিউটার অন করার পর ফার্মওয়্যার প্রোগ্রাম সক্রিয় হয়ে অন্যান্য সফটওয়্যারকে কার্যোপযোগী করে তোলে।
উদাহরণ- যেমন Bios



ফ্রীওয়্যার:
ফ্রীওয়্যার হলো বিনামূল্যে পাওয়া যায় এমন সফটওয়্যার। বিভিন্ন সফটওয়্যার নির্মাতা প্রতিষ্ঠানগুলো প্রচার প্রসার ও সমাজকল্যাণ মূলক কাজের জন্য তাদের তৈরি সফটওয়্যারের লাইসেন্স সকলের জন্য উন্মুক্ত করে সকলের জন্য বিনামূল্যে ব্যবহার করার সুযোগ করে দেয়। এধরনের সফটওয়্যার করার জন্য কম্পিউটার ব্যবহারকারীকে টাকা দিয়ে সফটওয়্যার কিনতে হয়না। এধরনের সফটওয়্যারগুলো কম্পিউটার ব্যবহারকারীকে সাধারণত ইন্টারনেট থেকে ডাউনলোড দিয়ে সংগ্রহ করে নিতে হয়।


শেয়ারওয়্যার: 
শেয়ারওয়্যার এক ধরনের সফটওয়্যার। সফটওয়্যার নির্মাতা প্রতিষ্ঠানগুলো এক দিন, সাত দিন, পনের দিন, এক মাস, দুই মাস, ছয় মাস, এক বছর ইত্যাদি বিভিন্ন সময়ের মেয়াদে তাদের তৈরিকৃত সফটওয়্যার ফ্রি ব্যবহারের অনুমতি দিয়ে থাকে। একে শেয়ারওয়্যার বলে। সফটওয়্যার নির্মাতা প্রতিষ্ঠানগুলো আবার এসকল সফটওয়্যার সামান্য কিছু রেজিষ্ট্রেশন ফিস এর মাধ্যমেও তাদের তৈরিকৃত সফটওয়্যার সরবরাহ করে ফ্রি ব্যবহারের অনুমতি দিয়ে থাকে। এর কারণ ক্রেতা যাতে ব্যবহারের মাধ্যমে সফটওয়্যারের কার্যকারিতা, ফিচার, ফাংশন, সুযোগ সুবিধা, ইত্যাদি পরীক্ষা- নিরীক্ষা করে দেখে নিতে পারে এবং ব্যবহারকারীর যদি সফটওয়্যারটি ভালোলাগে তবে পরবর্তীতে ক্রয় করে নিয়ে ব্যবহার করতে পারবে।


হিউম্যানওয়্যার:
হিউম্যানওয়্যার বলতে সাধারণ যে ব্যক্তি কম্পিউটারের হার্ডওয্যারের মধ্যে সফটওয়্যার স্থাপন করে কম্পিউটারকে ব্যবহার উপযোগী করে তোলে তাকে হিউম্যানওয়্যার বলে। প্রতিটি কম্পিউটারের দুইটি অংশ থাকে একটি হার্ডওয়্যার অপরটি সফটওয়্যার। সফটওয়্যার ছাড়া হার্ডওয়্যার চলতে পারেনা। কিন্তু হার্ডওয়্যার ছাড়াও সফটওয়্যার চলতে পারে। হার্ডওয়্যার দেখা যায় ও স্পর্শ করা যায় কিন্তু সফটওয়্যার দেখা যায়না ও স্পর্শ করা যায়না। সফটওয়্যারের মাধ্যমে কম্পিউটারের হার্ডওয়্যার সিস্টেমকে সচল রাখতে যে সকল ব্যক্তি প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে জড়িত তাকে হিউম্যানওয়্যার বলে। হিউম্যানওয়্যারগণ কম্পিউটারকে ব্যবহার উপযোগী করে তোলে।




এরকম নিত্য নতুন টিপস এবং ট্রিকস জানতে আমাদের ওয়েবসাইটের সাথেই থাকুন।আর কারো কোন বুঝতে সমস্যা হলে কমেন্ট করুন।আমি যথাসাধ্য বোঝানোর চেষ্টা করবো।
ধন্যবাদ সবাইকে।

Post a Comment

0 Comments