তথ্য চুরি ও কম্পিউটার অপরাধ সমূহ - Nishibd.com | Know For Sharing

তথ্য চুরি ও কম্পিউটার অপরাধ সমূহ

হাই বন্ধুরা কেমন আছেন আপনারা সবাই আশা করি সবাই ভালোই আছেন। আজ আমি আপনাদের মাঝে তথ্য প্রযুক্তির ব্যবস্থাপনার তথ্য চুরি ও কম্পিউটার অপরাধ নিয়ে আলোচনা করবো।

উপাত্ত চুরিঃ
যখন কোন ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান থেকে তাদের কোন অনুমতি ছাড়া বেআইনিভাবে তথ্যসমূহ অপহরণ করা হয় তাকে ডেটা চুরি বলে। অনেক হ্যাকাররা বিভিন্ন উপায় অবলম্বন করে এরকম ব্যাক্তি বা প্রতিষ্ঠানের তথ্য উপাত্ত সমূহ চুরি করে উক্ত ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের নানা ধরনের ক্ষতিসাধন করে থাকে। হ্যাকার বিভিন্ন উপায় পদ্ধতি অবলম্বন করে অন্যের কম্পিউটারে অবৈধভাবে প্রবেশ করে তার যাবতীয় গুরুত্বপূর্ণ ইনফরমেশন যেমন- ব্যক্তিগত ডকুমেন্ট, পাসওয়ার্ড, সোশ্যাল সিকিউরিটি নাম্বার, ক্রেডিট কার্ডের নম্বর সহ গুরুত্বপূর্ণ তথ্যাবলী চুরি করে থাকে। আমাদের প্রয়োজনীয় তথ্যাবলীকে চুরির হাত থেকে রক্ষা করার জন্য অনেক সময় পাসওয়ার্ড দিয়ে রেখে নিশ্চিত হয়ে যাই যে আমাদের তথ্যসমূহ আর কেউ চুরি করতে পারবেনা। এই কথাটা কিন্তু ভূল তথ্যসমূহকে কখনো পাসওয়ার্ড দিয়ে রেখে এর নিরাপত্তা কখনোই নিশ্চিত করা যায়না। অনেক Advance লেভেলের হ্যাকার আছে যারা আপনার সকল প্রকার নিরাপত্তা ব্যবস্থা ভেঙ্গে আপনার আপনার তথ্যাবলী চুরি করতে সক্ষম। হ্যাকাররা গুরুত্বপূর্ণ তথ্য চুরির পাশাপাশি গুরুত্বপূর্ণ ডেটা ব্যবস্থা নেটওয়ার্ক সিস্টেমকেও ধ্বংস করে নানা ধরনের ক্ষতিসাধণকরে থাকে। ইন্টারনেট ব্যবহার করে হ্যাকাররা নানা ধরনের অবৈধ ক্ষতিসাধণ মূলক কাজগুলো তারা করে থাকে।
হ্যাকাররা অনেক সময় গবেষণালব্ধ প্রতিষ্ঠানে হামলা চালিয়ে তাদের গবেষণালব্ধ তথ্যসমূহ চুরি করে থাকে। এতে প্রতিষ্ঠানের নিরাপত্তা ব্যবস্থা হুমকির মুখে পড়ে যায়। আমরা অনেক সময় দেখতে পাই কারো ব্যক্তিগত ফেইসবুক একাউন্ট বা ব্যাংক ডাকাতির মত এই ধরনের ঘটনা ঘটেছে। এতে ব্যাংকিং ব্যবস্থা হুমকির মুখে পড়ে যায়। সময়ের সাথে তাল মিলিয়ে ব্যাংকিং প্রতিষ্ঠান গুলোও হ্যাকিং রোধে নতুন নতুন কলাকৌশল প্রযুক্তি গ্রহণ করছে।
সাধারণভাবে ডেটা চুরি দুই ধরণের হয়ে থাকে।
১. তথ্য উপাত্ত চুরি।
২. অস্তিত্ব চুরি।
কম্পিউটার ব্যবহারকারী কম্পিউটারে থাকা প্রয়োজনীয় তথ্য উপাত্ত, ফাইল, ডকুমেন্ট ইত্যাদি সাধারণত হ্যাকাররা ইন্টারনেটের মাধ্যমে চুরি করে থাকে। প্রয়োজনীয় গুরুত্বপূর্ণ ফাইল, ডকুমেন্ট এ ফাইল দিয়ে সংরক্ষণ করা থাকলেও হ্যাকাররা হ্যাকিং এর মাধ্যমে সকল প্রকার পাসওয়ার্ড ভেঙ্গে এর ভেতরে প্রবেশ করে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য উদ্ধার করতে সক্ষম। ইন্টারনেট ব্যবহার করে হ্যাকাররা সাধারণত ব্যবহারকারীর গুরুত্বপূর্ণ তথ্যাবলী হ্যাকিং করে থাকে।

আবার অনেক সময় হ্যাকাররা ব্যবহারকারী সোশাল নেটওয়ার্ক এর ইউজার আইডি,পাসওয়ার্ড ইত্যাদি চুরি করে থাকে। আবার অনেক সময় ব্যবহারকারীর ডেবিট কার্ড, ক্রেডিট কার্ড, ভিসা,মাস্টার কার্ড ইত্যাদিতে থাকা গোপনীয় তথ্য চুরি করে ব্যবহারকারী আর্থিক ক্ষতিসাধন করে থাকে। আর এগুলোকে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য চুরি হয়ে ব্যবহারকারীর অস্তিত্ব থাকেনা। তাই একে অস্তিত্ব চুরি বলা হয়।

অধিক স্পর্শকাতর ডেটা চুরিঃ
হ্যাকারদের লক্ষ স্বত্ত্বাধীকার ও বুদ্ধিভিত্তিক ডকুমেন্ট ও তথ্যাবলী সমূহকে চুরি করা। যেমন ব্যক্তিগত তথ্য, গবেষণালব্ধ প্রতিষ্ঠান, উন্নয়নমুখী প্রতিষ্ঠান ইত্যাদি।আর কোন প্রতিষ্ঠানের এই এধরনের তথ্য চুরির মাধ্যমে সেই প্রতিষ্ঠানে ব্যাপকভাবে ক্ষতিসাধন করা সম্ভব। হ্যাকারদের কাছে এগুলো তথ্য অত্যন্ত স্পর্শকাতর ও লোভনীয়।


ডেটা চুরির অরক্ষিত অবস্থাঃ
আপনার কম্পিউটারে হ্যাকাররা নানা ধরনের আক্রমণ চালাতে পারে। এবং আপনার কম্পিউটারে যদি কোন প্রতিরোধ ব্যবস্থা না থাকে তবে আপনার কম্পিউটারে থাকে প্রয়োজনীয় গুরুত্বপূর্ণ তথ্যাদি হ্যাক হয়ে হ্যাকারের হাতে চলে যেতে পারে। আর হ্যাকাররা বিভিন্ন ধরনের ভাইরাস তৈরি করে ইন্টারেনেটে ছেড়ে দেয়। আর কম্পিউটার ব্যবহারকারী ইন্টারনেট ব্যবহারের সময় তাদের কম্পিউটারে এসকল ভাইরাস প্রবেশ করে ব্যবহারকারীর বিনা অনুমতিতেই ডেটা চুরি করে থাকে। তাই এসকল ভাইরাস প্রতিরোধের জন্য ব্যবহারকারী উচিত ভালো মানের একটি Anti Virus Software ব্যবহার করা। কম্পিউটার অপারেটিং সিস্টেম সব সময় আপডেট রাখা।


ডেটা চুরি প্রতিরোধঃ
হ্যাকাররা যাতে আপনার কম্পিউটারে অবৈধভাবে প্রবেশ করে ডেটা চুরি করতে না পারে সেজন্য Firewalls এর মাধ্যমে Hardware এবং Software কে সমন্বিত রেখে ডাটার নিরাপত্তা বিধান করা।


ফায়ারওয়ালসঃ
Firewalls কম্পিউটারের তথ্যপ্রযুক্তি নিরাপত্তা ব্যবস্থার প্রতিরোধ পিলার হিসেবে কাজ করে। কেউ যাতে আপনার কম্পিউটারে অবৈধভাবে প্রবেশ করে প্রয়োজনীয় তথ্য চুরি করতে না পারে সে জন্য কোন প্রতিষ্ঠানের গেটের সিকিউরিটি গার্ড হিসেবে Firewalls কাজ। বর্তমানে Windows সহ সব কম্পিউটারেই যেকোন হ্যাকিং বা সাইবার আক্রমণ থেকে রক্ষা পাবার জন্য Firewalls সেটআপ দেয়া থাকে।


কম্পিউটার অপরাধঃ
কম্পিউটার বিজ্ঞানের এক বিশ্ময়কর আবিষ্কার। তথ্যপ্রযুক্তি আমাদের জীবনযাত্রাকে সহজ স্বাচ্ছন্দ্যনয় উন্নত ও সহজ করে দিয়েছে। অপরদিকে প্রযুক্তির অনৈতিক ও অবৈধ ব্যবহারের কারনে আমাদের নানা ধরনের সমস্যায় পড়তে হচ্ছে। কিছু সংখ্যক ব্যবহার, প্রোগ্রামার এই তথ্যপ্রযুক্তিটাকে ব্যবহার করে নানা রকম অপরাধমূলক কাজ কর্মে লিপ্ত হচ্ছে। দিন যতই যাচ্ছে ইন্টারনেটের মাধ্যমে নতুন নতুন নানা ধরনের অপরাধ বৃদ্ধি পাচ্ছে। বর্তমানে মানুষ দিন দিন ইন্টারনেটের সাথে সংযুক্ত হচ্ছে এবং নানা ধরনের হয়রানির সম্মুখীন হচ্ছে। কারো ব্যক্তিগত সোশ্যাল মিডিয়া একাউন্ট, ক্রেডিট কার্ডের গোপনীয় তথ্য হ্যাক হচ্ছে। কারো বা কম্পিউটারে অবৈধ প্রবেশ করে প্রয়োজনীয় তথ্য উপাত্ত,  ডকুমেন্ট ইত্যাদি চুরি হচ্ছে। কেউবা অনলাইনে প্রতারণা করছে। কেউ অনলাইনে ভাইরাস ছড়িয়ে ডেটা চুরি তথা কম্পিউটার সিস্টেমের ক্ষতিসাধন করছে। কেউবা সফটওয়্যার পাইরেসি, হ্যাকিং, ইত্যাদির মত অপরাধ করেই চলছ। এছাড়াও নানা ধরনের অপরাধ এই কম্পিউটারকে ঘিরে সংঘটিত হচ্ছে। নিচে তা দেয়া হলঃ
১. কম্পিউটারের সাহায্যে নকল জাল টাকা তৈরি।
২. কম্পিউটারের সাহায্যে ভূয়া নকল ডকুমেন্ট তৈরি।
৩. অনলাইনে পর্ণোগ্রাফি প্রচার করে যুব সমাজকে ধ্বংস করা।
৪. অন্যের কম্পিউটারে অবৈধভাবে প্রবেশ করে তথ্য চুরি।
৫. কম্পিউটার ভাইরাস তৈরি করে তথ্য চুরি ও কম্পিউটার সিস্টেমকে ধ্বংস করা
৬. অনলাইনে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ব্যবহার করে কারো সাথে প্রতারণা করে অর্থ হাতিয়ে নেয়া।
৭. অনলাইনে মিথ্যা ও ভূয়া খবর প্রচার করে সাধারণ জনগনকে বিভ্রান্ত করা।


কম্পিউটার অপরাধের বিভিন্ন ধরন সমূহঃ
কম্পিউটার ব্যবহার করে যে বিভিন্ন অপরাধমূলক কাজ কর্ম করা হয় তা নিচে আলোচনা করা হল।
১. অনাকাঙ্ক্ষিত প্রবেশ ও ব্যবহারঃ
একজন কম্পিউটার ব্যবহারকারী কম্পিউটারে কেউ অবৈধভাবে প্রবেশ করে তার কম্পিউটারে থাকা গুরুত্বপূর্ণ প্রয়োজনীয় তথ্য উপাত্ত, ডকুমেন্ট ইত্যাদি চুরি করে নিতে পারে। বা তার গুরুত্বপূর্ণ প্রয়োজনীয় ফাইল মুছে দিয়ে তার ক্ষতিসাধন করতে পারে। অনেক সময় হ্যাকার বিভিন্ন ব্যাংকের কম্পিউটার নেটওয়ার্কের মধ্য প্রবেশ করে অন্যের একাউন্টের জমানো টাকা নিজের একাউন্টে জমা করে নেয়।

২. সফটওয়্যার চুরিঃ
সফটওয়্যার নির্মাতা প্রতিষ্ঠানের অনুমতি ছাড়া কোন সফটওয়্যার কপি করে ব্যবহার করা হলে তা এক ধরনের চুরি।  সফটওয়্যার চুরির ফলে সফটওয়্যার নির্মাতা প্রতিষ্ঠান আর্থিক ক্ষতির সম্মুখীন হন এবং নতুন নতুন সফটওয়্যার তৈরিতে আগ্রহ হারান।

৩. ওয়েবসাইট হ্যাকিংঃ
হ্যাকাররা ইন্টারনেটের মাধ্যমে বিভিন্ন হাকিং টুলস ব্যবহার করে ওয়েবসাইট হ্যাকিং করে এতে থাকা তথ্যগুলো পরিবর্তন করে ভূল তথ্য দিয়ে ব্যবহারকারীদের মাঝে বিভ্রান্ত ছড়িয়ে।

৪. ক্ষতিকর প্রোগ্রামঃ
হ্যাকাররা কম্পিউটার ব্যবহারকারীর ক্ষতি করার উদ্দেশ্যে নানা ধরনের ক্ষতিকর প্রোগ্রাম, ভাইরাস ইত্যাদি তৈরি করে ব্যবহারকারীর কম্পিউটারে প্রবেশ করিয়ে তথ্য চুরি ও কম্পিউটার সিস্টেমের ক্ষতিসাধন করে থাকে।

৫. কম্পিউটার জালিয়াতিঃ
অনেক সময় হ্যাকাররা কম্পিউটারের ইনপুট প্রোগ্রাম পরিবর্তন,অবৈধভাবে কম্পিউটারে প্রবেশ করে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য চুরি করা  অথবা ব্যক্তিগত ব্যবহারকারী, কোন প্রতিষ্ঠানের বা দেশের আর্থিকভাবে ক্ষতিসাধনের জন্য কম্পিউটার সিস্টেমকে ধ্বংস করা হয়। এগুলো হল কম্পিউটার জালিয়াতি।



আজ এপর্যন্তই...
কারো কোন কিছু বুঝতে সমস্যা হলে কমেন্ট করুন।
ধন্যবাদ সবাইকে।




Post a comment

0 Comments