কম্পিউটারের হার্ডওয়্যার সম্পর্কে ধারণা - Nishibd.com | Know For Sharing

কম্পিউটারের হার্ডওয়্যার সম্পর্কে ধারণা

হ্যালো বন্ধুরা কেমন আছেন আপনারা সবাই? আশা করি সবাই ভালোই আছেন। আজ আমি আপনাদের মাঝে কম্পিউটার হার্ডওয়্যারের ধারণা নিয়ে আলোচনা করবো।

হার্ডওয়্যারঃ
কম্পিউটারের সাথে সংযুক্ত যাবতীয় যান্ত্রিক অংশকে হার্ডওয়্যার বলা হয়। কম্পিউটারের সাথে সংযুক্ত এই যান্ত্রিক অংশসমূহকে তিন ভাগে ভাগ করা হয়।যথা-
১. ইনপুট ডিভাইসঃ কীবোর্ড, মাউস, স্কানার, OMR, OCR ইত্যাদি।
২. আউটপুট ডিভাইসঃ মনিটর, প্রিন্টার, প্লটার,স্পিকার ইত্যাদি।
৩. ইনপুট/আউটপুট ডিভাইসঃ হার্ড ডিস্ক, ফ্লপি ডিস্ক, সিডি রম, ডিভিডি, পেন ড্রাইভ ইত্যাদি।


কীবোর্ডঃ
কীবোর্ড একটি ইনপুট ডিভাইস। কম্পিউটারকে নির্দেশ প্রদান করার জন্য কীবোর্ডে বর্ণ, অংক, সংখ্যা, চিহ্ন এগুলো বাটন চেপে কম্পিউটারকে নির্দেশ প্রদান করা হয়। এবং ব্যবহারকারীর দেয়া নির্দেশের ভিত্তিতে কম্পিউটার কাজ করে থাকে। কীবোর্ডে ১০৪ টি থেকে ১০৬ টি পর্যন্ত কী থাকে। ব্যবহার অনুযায়ী কীবোর্ডের কী সমূহ ছয়টি ভাগে ভাগ করা হয়েছে। যথা- অ্যালফাবেটিক কী, নিউমেরিক ও লজিক্যাল কী, কমান্ড বা ফাংশন কী, কার্সর কন্ট্রোল কী, নিউমেরিক কী প্যাড, বিশেষ কী।
বর্তমানে বাজারে সাধারণত দুই ধরনের কীবোর্ড পাওয়া যায়। যথা-
১. স্টান্ডার্ড কী-বোর্ড।
২. এনহ্যান্সড কী-বোর্ড।


পয়েন্টিং ডিভাইসঃ
কম্পিউটাররে নির্দেশ প্রদান করে লিখালিখা বা ডাটা এন্ট্রি করার জন্য ইনপুট ডিভাইস হিসেবে কীবোর্ডকে ব্যবহার করা হয়। কম্পিউটাররে নির্দেশ প্রদান করে লিখালিখা বা ডাটা এন্ট্রি করার অপর ইনপুট ডিভাইসের নাম হল পয়েন্টিং ডিভাইস। পয়েন্টিং ডিভাইস এটিও একটি ইনপুট ডিভাইস। সাধারণত চিত্র ভিত্তিক অপারেটিং সিস্টেমে ইনপুট ডিভাইস হিসেবে পয়েন্টিং ডিভাইস ব্যবহার করা হয়। চিত্র ভিত্তিক অপারেটিং সিস্টেমের আইকন, মেনু, উইন্ডো, বার ইত্যাদিতে পয়েন্টিং ডিভাইস দিয়ে খুব সুন্দর এবং অতি সহজভাবে কম্পিউটারকে নির্দেশ প্রদান করে কাজ করা যায়। পয়েন্টিং ডিভাইসের আবিষ্কার কম্পিউটার পরিচালনাকে আরো সহজ ও দ্রুত বেগবান করেছে। তাই ডিভাইসের জনপ্রিয়তা দিন দিন বেড়েই চলেছে।

নিচে জনপ্রিয় পয়েন্টিং ডিভাইসের বর্ণনা দেয়া হলঃ


মাউসঃ
মাউস একটি ইনপুট ডিভাইস। ব্যবহারের দিক থেকে কীবোর্ডের পরেই মাউসের স্থান। কম্পিউটারে মাউস দিয়ে কাজ করার মাউস নড়ালে কম্পিউটার স্কিনের তীরের মত মাউস পয়েন্টারও নড়াচড়া করে। কম্পিউটারের তীরের মত দেখতে এটি হল মাউস পয়েন্টার। মাউস পয়েন্টার দিয়ে  চিত্র ভিত্তিক অপারেটিং সিস্টেমের আইকন, মেনু, উইন্ডো, বার ইত্যাদিতে মাউস নড়াচড়া করার মাধ্যমে কম্পিউটারকে নির্দেশ প্রদান করা হয় এবং কম্পিউটার ব্যবহারকারী দেয়া সেই নির্দেশের ভিত্তিতে কাজ করে।
বাজারে সাধারণত দুই ধরনের মাউস পাও যায়।যথা-
১. মেকানিক্যাল বা সাধারণ মাউস।
২. অপটিক্যাল বা ট্রেকবল মাউস।

মেকানিক্যাল বা সাধারণ মাউসের ভেতরে একটি বিশেষ ধরনের বল থাকে। মাউস নড়াচড়া করলে এর ভেতরের বল ঘুরতে থাকে সাথে সাথে কম্পিউটারের পর্দার কার্সর ও নড়াচড়া করতে থাকে।
অপটিক্যাল বা ট্রেকবল মাউসের ভেতরে কোন বল থাকেনা। বলের পরিবর্তে এর ভেতরে লাইট বীম বসানো থাকে। এই দুই ধরনের মাউস ছাড়াও বর্তমানে তার বিহীন ব্লুটুথ মাউস পাওয়া যায়। যেগুলো কোন প্রকার তার ছাড়াই ব্লুটুথ ওয়্যারলেস কানেকশনের মাধ্যমে কাজ করে থাকে।

টাচপ্যাডঃ
টাচপ্যাড একটি ইনপুট ডিভাইস। কম্পিউটারে দ্রুতগতিতে কার্যসম্পাদনের জন্য এই ডিভাইসটি ব্যবহার করা হয়। টাচপ্যাডের ওপর আঙ্গুল রেখে নড়াচড়া করার মাধ্যমে কম্পিউটারের কার্সর বা পয়েন্টাকে নিয়ন্ত্রণ করা হয়। কম্পিউটারে নির্দেশ প্রদান করার জন্য টাচপ্যাডে আঙ্গুল রেখে নড়াচড়া করে কম্পিউটারের আইকন, মেনু, উইন্ডো, বার ইত্যাদির ওপর কার্সর বা পয়েন্টার রেখে টাচপ্যাডের সাহায্যে ক্লিক করে কাজ করা হয়।


গ্রাফিক্স ট্যাবলেটঃ
ইনপুট ডিভাইস হিসেবে এটিকে ব্যবহার করা হয়। গ্রাফিক্স ট্যাবলেট এই ডিভাইসের সাহায্যে মানচিত্র, ড্রইং এবং অঙ্কনের নানা কাজে এই ডিভাইসটি ব্যবহার করা হয়। কোন কিছু অঙ্কন বা ড্রাইংয়ের প্রয়োজন হলে এই ডিভাইসটিকে কম্পিউটারের সাথে সংযুক্ত করে কলমের ন্যায় স্টাইলাস ব্যবহার করে এর ওপর লেখা হয় এবং তা কম্পিউটারের পর্দায় ভেসে ওঠে।


ডিজিটাইজারঃ
বর্তমান সময়ের উন্নত ইনপুট ডিভাইস হল ডিজিটাইজার। এই ডিভাইসটা দেখতে অনেকটা শ্লেটের মত। ডিজিটাইজার চালনার জন্য বিদ্যুতের প্রয়োজন হয়। ডিজিটাইজার কম্পিউটারের সাথে সংযুক্ত থাকে। ডিজিটাইজার বোর্ডে কোন কিছু লিখার জন্য কলমের ন্যায় একটি স্টাইলাস থাকে। ডিজিটাইজারে স্টাইলাস কোন কিছু লেখা, অঙ্কন বা ড্রইং করা হলে এটি কম্পিউটারের মনিটরের পর্দায় প্রদর্শন করে।


লাইট পেনঃ
এটি একটি ইলেক্ট্রনিক কলম এবং ইনপুট ডিভাইস। লাইট পেনের সাহায্যে কম্পিউটারের আইকন, মেনু, উইন্ডো, বার ইত্যাদিতে কমান্ড দিয়ে কম্পিউটার পরিচালনা এবং ড্রিইং বা চিত্র অঙ্কন করার জন্য এই বিশেষ পেনটি ব্যবহার করা হয়। লাইট পেনটি মনিটরের পর্দার ওপর স্পর্শ করালে পেনের আলোক কোষ সংবেদনশীল উপাদানটি মনিটরের পর্দা থেকে বিচ্ছুরিত আলো শনাক্ত করে কম্পিউটারের প্রক্রিয়াকরণ অংশে প্রেরণ করে এবং সে অনুযায়ী কম্পিউটার কাজ করে থাকে। লাইট পেনের সাহায্যে অঙ্কন বা ড্রাইং, মানচিত্র,নকশা ইত্যাদি কাজগুলো করা হয়।


স্কানারঃ
স্কানার একটি ইনপুট ডিভাইস। স্কানারের সাহায্যে কোন লেখা, ছবি বা ডকুমেন্টকে সরাসরি কম্পিউটারের পর্দায় প্রেরণ করা যায়। এবং এসকল ছবি ব্যবহারকারী ইচ্ছেমত রঙের ব্যবহার, নতুন মাত্রা যোগ করা যায়।
কাজের প্রকৃতি ও ধরন অনুযায়ী স্কানারকে তিন ভাগে ভাগ করা হয়েছে।যথা-
১. হ্যান্ড হেড স্কানার।
২. ফ্লাটবেড অপটিক্যাল স্কানার।
৩. ড্রাম স্কানার।

বার কোডঃ
অনেক খাদ্যপণ্য, ইলেক্ট্রনিক পণ্য, বই ইত্যাদির সামগ্রীর গায়ে মোটা, সরু, মাঝারি, চওড়া ইত্যাদির ন্যায় কাটা দাগ থাকে। বার কোডের সাহায্যে পণ্যের নাম ও পণ্য সংক্রান্ত বিস্তারিত তথ্য দেয়া থাকে। এই কোড মানুষ পড়তে পারেনা।এই কোড পড়ার জন্য প্রয়োজন হয় বার কোড স্কানারের। বার কোড স্কানাকে কম্পিউটারের সাথে সংযুক্ত করে বার কোডগুলো পড়া হয়ে থাকে।


সেন্সরঃ
সেন্সর হলো এক ধরনের ইনপুট ডিভাইস। একেক সেন্সর একেক কাজ করে থাকে। সেন্সর পরিবেশ থেকে। সেন্সর পরিবেশ থেকে নানা ধরনের তথ্য উপাত্ত সমূহ সংগ্রহ করে কম্পিউটারে প্রেরণ করে থাকে। যেমন দিক নির্নয়ের জন্য ব্যবহার করা হয় কম্পাস সেন্সর। আই আর সেন্সর দ্বারা টিভির রিমোট কন্ট্রোল নিয়ন্ত্রণ করা হয়। এ ছাড়া তাপ, চাপ আদ্রতা, বায়ুপ্রবাহ, গতি, গ্যাস ইত্যাদি শনাক্তকরণে সেন্সর ব্যবহার করা হয়।


মনিটরঃ
মনিটর একটি আউটপুট ডিভাইস। ইনপুট ডিভাইসের সাহায্যে কম্পিউটারকে কোন কাজের জন্য নির্দেশ প্রদান করা হলে প্রক্রিয়াকরণ অংশ তা প্রক্রিয়াকরণ করে ফলাফল মনিটরে প্রদান করে।
প্রযুক্তিগত দিক বিবেচনা করে মনিটরকে প্রধানত দুই ভাগে ভাগ করা যায়। যথা-

১. CRT মনিটরঃ
CRT মনিটরের পূর্ণরুপ হল- Cathod Ray Tube. এই মনিটর আকার আয়তনে কিছুটা বড় এবং দামে অনেক সস্তা। এই মনিটরের কালার দেখানোর ক্ষমতা অসীম।

২. LCD মনিটরঃ
LCD মনিটরের পূর্ণরূপ Liquid Crystal Display. এই মনিটর আকার আয়তনে কিছুটা ছোট এবং পাতলা। এই মনিটরের দাম কিছুটা বেশি। এই মনিটরের কালার দেখানোর ক্ষমতা সীমিত। তবে সীমিত কালাকে অসীম করার প্রচেষ্টা চলছে। বর্তমানে কম্পিউটার, নোটবুক, ল্যাপটপ এগুলোতে এই মনিটর খুব বেশি ব্যবহার করা হয়।


প্রিন্টারঃ
প্রিন্টার একটি আউটপুট ডিভাইস। কম্পিউটারের যাহায্যে টাইপকৃত, ডিজাইনকৃত, অঙ্কন, লেখা, ছবি, চিত্র ইত্যাদি  মুদ্রণের জন্য যে যন্ত্রটি ব্যবহার করা হয় তাকে প্রিন্টার বলে। প্রিন্টার একটি মুদ্রণ যন্ত্র। এর সাহায্যে নানা ধরনের মুদ্রণের কাজগুলো করা হয়।
প্রিন্টার প্রধানত দুই প্রকার।যথা-
১. ইম্প্যাক্ট বা ধাক্কা প্রিন্টার।
২. নন-ইম্প্যাক্ট বা অধাক্কা প্রিন্টার।


আজ এপর্যন্তই...
কারো কোন কিছু বুঝতে সমস্যা হলে কমেন্ট করুন।
ধন্যবাদ সবাইকে।





Post a comment

0 Comments