বিভিন্ন প্রকার অ্যাপ্লিকেশন প্যাকেজ প্রোগ্রাম সমূহ - Nishibd.com | Know For Sharing

বিভিন্ন প্রকার অ্যাপ্লিকেশন প্যাকেজ প্রোগ্রাম সমূহ

হ্যালো বন্ধুরা কেমন আছেন আপনারা সবাই? আশা করি সবাই ভালোই আছেন। আজ আমি আপনাদের মাঝে বিভিন্ন প্রকার অ্যাপ্লিকেশন প্যাকেজ প্রোগ্রাম সমূহ নিয়ে আলোচনা করবো।

অ্যাপ্লিকেশন প্যাকেজ প্রোগ্রামঃ
কম্পিউটার ব্যবহারকারীর চাহিদা অনুযায়ী বিভিন্ন সফটওয়্যার নির্মাতা প্রতিষ্ঠানগুলো ক্রেতাদের বিভিন্ন চাহিদা ও রুচির দিকে প্রাধান্য দিয়ে বিভিন্ন ধরনের সফটওয়্যার তৈরি ও বাজারজাতকরণ করে থাকে। এবং ক্রেতাসাধারণ তাদের রুচি ও পছন্দ অনুযায়ী তা বাজার থেকে ক্রয় করে থাকে।

নিচে কয়েকটি অ্যাপ্লিকেশন সফটওয়্যারের নাম ও তাদের কাজের বর্ণনা দেয়া হল।

১. ওয়ার্ড প্রসেসিং সফটওয়্যারঃ
ওয়ার্ড প্রসেসিং এই সফটওয়্যারটি দিয়ে মূলত বিভিন্ন ধরনের লিখালিখির কাজ করা হয়। যে সফটওয়্যারের মাধ্যমে শব্দ প্রক্রিয়াকরণের কাজগুলো সম্পাদন করা হয় তাকে ওয়ার্ড প্রসেসিং সফটওয়্যার বলে। যেমন- প্রয়োজনীয় চিঠিপত্র, দলীলপত্র, ডকুমেন্ট তৈরি ইত্যাদি কাজগুলো এই সফটওয়্যার দিয়ে করা হয়।
কয়েকটি ওয়ার্ড প্রসেসিং সফটওয়্যারের নাম হল- মাইক্রোসফট ওয়ার্ড, ওয়ার্ড স্টার, ওয়ার্ড পারফেক্ট, ওয়ার্ড প্রো, ডক্স রাইটার, ইত্যাদি।

২. স্প্রেডশীট ম্যানেজমেন্ট সফটওয়্যারঃ
বিভিন্ন ধরনের বাজেট তৈরি, রেজাল্ট শীট তৈরি, কারখানার কর্মচারীদের হাজিরা বেতন শীট তৈরি,বিভিন্ন ধরনের তথ্য উপাত্ত সমূহকে সংরক্ষণ ও বিভিন্ন প্রকার গাণিতিক কাজ ইত্যাদি সম্পাদনের জন্য স্প্রেডশীট ম্যানেজমেন্ট সফটওয়্যারটি ব্যবহার করা হয়।
কয়েকটি স্প্রেডশীট ম্যানেজমেন্ট সফটওয়্যারের নাম হলঃ লোটাস ১-২-৩, মাইক্রোসফট এক্সেল, কোয়ান্ট্রো প্রো, স্টার ক্যালক ইত্যাদি।

৩. ডেটাবেস অ্যানালাইসিস সফটওয়্যারঃ
এই সফটওয়্যারের মাধ্যমে বিশাল ধরনের তথ্য উপাত্তকে নিয়ে কাজ করা হয় এবং বিভিন্ন ধরনের তথ্য উপাত্তের বিচার বিশ্লেষণ করা হয়। যেমন- বিভিন্ন স্কুল কলেজের ছাত্র ছাত্রীদের তাদের নাম, ঠিকানা, পিতা-মাতার নাম, শ্রেণী, রোল নং, কোন বিষয়ে কত নম্বর পেয়েছে ইত্যাদি তথ্যাবলী সংরক্ষণ করে রাখা হয়। এছাড়া এই সফটওয়্যারের মাধ্যমে প্রতিষ্ঠানে নিয়োজিত কর্মকর্তা কর্মচারীদের ডেটাবেস তৈরি করা হয়।
কয়েকটি স্প্রেডশীট ম্যানেজমেন্ট সফটওয়্যারের নাম হলঃ মাইক্রোসফট এক্সেস, লোটাস এপ্রোচ, মাইক্রোসফট এসকিউএল সার্ভার, প্যারাডক্স, স্টার বেজ ইত্যাদি।

৪. ক্যাড (CAD):
ক্যাড (CAD) এর পূর্ণরূপ Computer Aided Design. এই সফটওয়্যার দিয়ে সাধারণত ঘরবাড়ি, বিল্ডিং, অফিস আদালত, বিভিন্ন স্থাপত্য ও যন্ত্রপাতির ডিজাইন করা হয়।
কয়েকটি ক্যাড (CAD) সফটওয়্যারের নাম হলঃ অটো ক্যাড, ফাস্ট ক্যাড, টার্বো ক্যাড ইত্যাদি।

৫. সিমুলেশন সফটওয়্যারঃ
এই একটি ভার্চুয়াল রিয়ালিটি ল্যাপরোস্কোপিক সফটওয়্যার। সিমুলেশন সফটওয়্যাটির মাধ্যমে সাধারণত ডাক্তারদের অপারেশন শেখানোর প্রশিক্ষণ দেয়া হয়।

৬. ইউটিলিটি সফটওয়্যারঃ
কম্পিউটারের কার্যকারীতা বৃদ্ধি ও কম্পিউটারকে দ্রুতগতিসম্পন্ন করে ব্যবহার উপযোগী করে তোলার জন্য সাধারণত এই ধরনের সফটওয়্যারগুলো ব্যবহার করা হয়।
কয়েকটি ইউটিলিটি সফটওয়্যারের নাম হলঃ পার্টিশন ম্যাজিক, নর্টন ইউটিলিটি।


৮. ডেস্কটপ পাবলিকেশন প্যাকেজঃ
এ ধনেরর সফটওয়্যারগুলোর মাধ্যমে বিভিন্ন ধরনের প্রিন্টিং বা বইপত্র ছাপার কাজগুলো সম্পাদন করা হয়ে থাকে।
কয়েকটি ডেস্কটপ পাবলিকেশন সফটওয়্যারের নাম হলঃ পেজমেকার, কোয়ার্ক এক্সপ্রেস।

৯. গ্রাফিক্স সফটওয়্যারঃ
এই সফটওয়্যারের মাধমে বিভিন্ন ধরনের ছবি, চার্ট বা তথ্যের ভিজুয়াল উপস্থাপনা করা হয়। গ্রাফিক্স সফটওয়্যার দিয়ে সাধারণত বিভিন্ন ধরনের ডিজাইনের কাজগুলো করা হয়। এই সফটওয়্যার দিয়ে ছবির অনেক সুন্দর সুন্দর ডিজাইন করা যায়।
কয়েকটি গ্রাফিক্স সফটওয়্যারের নাম হলঃ Adobe photoshop, Adobe illustrator, Painter, Photo Express, I-Photoplus, Corel Draw, Adobe Premier, Quark Express, Harvard Graphics, Microsoft Power Point ইত্যাদি।


১০. গ্রাফিক্স অ্যানিমেশন সফটওয়্যারঃ
এই সফটওয়্যারের মাধ্যমে বিভিন্ন ধরনের চলমান কার্টুন ও চলমান অবজেক্ট তৈরি করা হয়।
কয়েট গ্রাফিক্স অ্যানিমেশন সফটওয়্যারের নাম হলঃ থ্রিডি স্টুডিও ম্যাক্স, মায়া ইত্যাদি।

১১. নেটওয়ার্কিং কমিউনিকেশন সফটওয়্যারঃ
এক কম্পিউটার থেকে অন্য কম্পিউটারে তথ্য আদান প্রদান বা যোগাযোগ প্রক্রিয়া স্থাপনের জন্য নেটওয়ার্কিং সফটওয়্যারের মাধ্যমে নেটওয়ার্কিং কমিউনিকেশন তৈরি করা হয়।
কয়েকটি নেটওয়ার্কিং কমিউনিকেশন সফটওয়্যারের নাম হলঃ নোভেল, নেটওয়্যার,টিসিপি, আইপি ইত্যাদি।


১২. মাল্টিমিডিয়া সফটওয়্যারঃ
বিভিন্ন ধরনের মুভি বা ভিডিওতে বিভিন্ন ধরনের অ্যানিমেশন, সাউন্ড এবং নানা ধরনের ইফেক্ট দেয়ার জন্য এই মাল্টিমিডিয়া সফটওয়্যারগুলো ব্যবহার করা হয়। ছাড়া এই সফটওয়্যারগুলোতে ভিডিও প্লে করে বিভিন্ন মোডে দেখা যায়।
কয়েকটি মাল্টিমিডিয়া সফটওয়্যারের নাম হল- উইন্ডোজ মিডিয়া প্লেয়ার, কেএম প্লেয়ার, ফ্লাশ, জেট অডিও প্লেয়ার ইত্যাদি।


১৩. এডুকেশন সফটওয়্যারঃ
অনেক সফটওয়্যার নির্মাতা প্রতিষ্ঠান আছে যারা শিক্ষার্থীদের কথা বিবেচনা করে অনেক শিক্ষণীয় সফটওয়্যার প্রস্তুত করে থাকে। এ সফটওয়্যারের মাধ্যমে সাধারণত শিশুদের নানা শিক্ষণীয় বিষয়গুলো সম্পর্কে শিক্ষাদান করানো হয়।
কয়েকটি এডুকেশন সফটওয়্যারের নাম হল- ইন্টারঅ্যাকটিভ, এনসাইক্লোপিডিয়া ইত্যাদি।


১৪. এন্টারটেইনমেন্ট সফটওয়্যারঃ
আজকাল মানুষ বিনোদনের মাধ্যম হিসেবে কম্পিউটারকে বেছে নিয়েছে। কম্পিউটারে বিনোদনের জন্য অনেক সফটওয়্যার গেম রয়েছে যার মাধ্যমে অবসর সময়গুলো খুব সহজেই বিনোদনের সাথে কাটানো যায়।

১৫. গাণিতিক সফটওয়্যারঃ
কম্পিউটার একটি গাণিতিক যন্ত্র। তাই এর সাহায্যে গাণিতিক জটিল ও কঠিন হিসাবগুলো খুব সহজেই করা যায়।
কয়েকটি গাণিতিক হিসাব নিকাশ সফটওয়্যারের নাম হলঃ ম্যাপল স্ট্যাড প্রো।


১৬. প্রেজেন্টেশন সফটওয়্যারঃ
এ সফটওয়্যার দিয়ে বিভিন্ন স্লাইড শো চিত্রের মাধ্যমে উপস্থাপন করে অনেক সুন্দর প্রেজেন্টেশন তৈরি করা যায়।
কয়েকটি প্রেজেন্টেশন সফটওয়্যারের নাম হল- মাইক্রোসফট পাওয়ার পয়েন্ট।

১৭. ইন্টারনেট ব্রাউজারঃ
ইন্টারনেটে প্রবেশ করে বিভিন্ন ধরনের ওয়েবসাইট ব্রাউজ করার জন্য প্রয়োজন হয় ইন্টারনেট ব্রাউজারের। ইন্টারনেট ব্রাউজার ছাড়া ইন্টানেটে প্রবেশ করা যায়না।
কয়েকটি ইন্টারনেট ব্রাউজারের নাম হল-
Chrome, Opera, Safari, Internet Explorer ইত্যাদি।



ওয়ার্ড প্রসেসিং এর সুবিধাসমূহ নিচে আলোচনা করা হলঃ
১. খুব সহজেই যে কোন ডকুমেন্ট নিয়ে লিখালিখির কাজ সম্পাদন করা যায়। এবং কোন ভূল ত্রুটি হলে তা খুব সহজের পরিবর্তন, পরিবর্ধন, সংশোধন ও মুছে ফেলা যায়।
২. ডকুমেন্টের লেখা সমূহ খুব সহজেই এক স্থান থেকে স্থানে সরানো যায়।
৩. ওয়ার্ড প্রসেসিং এ কোন লেখা বার বার না লিখে কাট কপি করা যায়। এতে কম সময়ে অনেক কাজ করা যায়।
৪. ডকুমেন্ট তৈরির ক্ষেত্রে এক ফাইল থেকে প্রয়োজনীয় অংশ কাট,কপি করে অন্য ফাইলে খুব সহজেই সংযোজন করে ডকুমেন্ট তৈরি করা যায়।
৫. কোন ডকুমেন্ট তৈরির সময় এর বানানের ভূল ত্রুটি শনাক্ত ও ব্যাকরণগত ভূল খুব সহজেই সংশোধন করা যায়।
৬. ডকুমেন্ট তৈরির সময় একই শব্দের বিভিন্ন সামর্থক শব্দগুলোকে খুব সহজেই প্রতিস্থাপন করা যায়।
৭. ডকুমেন্ট তৈরির ক্ষেত্রে কি পরিমাণ কতটুকু পেজের দরকার তা প্রয়োজন অনুযায়ী সিলেক্ট করে কাজ করা যায়।
৮. তৈরিকৃত ডকুমেন্টকে খুব সহজেই মেমোরিতে স্থায়ীভাবে সংরক্ষণ করা যায় এবং ব্যবহারকারীর প্রয়োজন অনুযায়ী প্রিন্টিং এর মাধ্যমে মুদ্রণ করে ডকুমেন্টের অনুলিপি খুব সহজেই প্রস্তুত করতে পারে।





ডেটাবেস প্রোগ্রাম কীঃ
ডেটাবেস প্রোগ্রামের মাধ্যমে ডেটা সমূহকে সংরক্ষণ করে প্রয়োজন অনুসারে এগুলোকে সাজানো বা কাজে লাগানো হয়। ডেটাবেজ প্রোগ্রামের মাধ্যমে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ছাত্র ছাত্রীদের ব্যক্তিগত ডেটা সংরক্ষণ করে রাখা হয়। এছারা কোন প্রতিষ্ঠানে নিয়োজিত কর্মকর্তা কর্মচারীদের বেতন, হাজিরা শীট প্রস্তুত করা হয়। কয়েকটি ডেটাবেস প্রোগ্রামের নাম হলঃ Dbase, Power Builder, Microsoft Foxoro, Microsoft Visual Foxpro, Microsoft Visual Basic, Microsoft Access, Delphi, Informix, Oracle, Java, 4D, File Maker Pro, SQL, Paradox ইত্যাদি।



ডাটাবেজ ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম কিঃ
পরস্পর সম্পর্কযুক্ত এক বা একাধিক ডাটা সমূহ সংগ্রহ করে ডাটাবেস তৈরি করা, ডাটা সমূহ সংরক্ষণ করা এবং উক্ত ডাটার ওপর বিভিন্ন প্রকার কার্যসম্পাদনের জন্য ব্যবহৃত প্রোগ্রাম সমূহের সমষ্টিকে ডাটাবেজ ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম বলে। পরস্পর সম্পর্কযুক্ত এক বা একাধিক তথ্য সমুহকে ডাটাবেস বলা হয়। ডাটাবেসের ডাটা সমূহকে ব্যবস্থাপনা ও পরিচালনায় ব্যবহৃত প্রোগ্রাম সমূহকে ডাটাবেজ ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম বলা হয়।


ডাটাবেজ ম্যানেজমেন্ট সিস্টেমের ব্যবহারঃ
১. অনেক বড় আকারের তথ্য উপাত্ত নিয়ে কাজ করার ক্ষেত্রে এবং তথ্য সমূহ সংরক্ষণ ও প্রক্রিয়াকরণ কাজ করার জন্য ডাটাবেজ ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম ব্যবহার করা হয়।
২. ট্রেন ও এয়ার লাইনের টিকিট বিক্রয় ও তাদের শিডিউল ঠিক রাখার জন্য।
৩. ব্যাংককের প্রতিদিনের লেনদেন ও যাবতীয় টাকার হিসাব নিকাশ ঠিক রাখার জন্য ডাটাবেজ ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম ব্যবহার করা হয়।
৪. ব্যক্তিগত বা বড় বড় ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের হিসাব নিকাশ সুষ্ঠুভাবে সম্পাদনের জন্য।
৫. কোন প্রতিষ্ঠানে নিয়োজিত কর্মকর্তা কর্মচারীদের জীবন বৃত্তান্ত সংরক্ষণের জন্য।
৬. শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ছাত্র ছাত্রীদের যাবতীয় তথ্য সংরক্ষণের জন্য।
৭. দেশের মোট জনসংখ্যা বের করতে আদমশুমারি গণনা এবং ভোটার লিস্ট তৈরি করতে এ প্রোগ্রাম ব্যবহার করা হয়।



আজকের মত এই এপর্যন্তই..
সবাই ভালো থাকবেন।
ধন্যবাদ সবাইকে।

Post a comment

0 Comments