কম্পিউটার অপারেটিং সিস্টেমের মৌলিক ধারণা সমূহ - Nishibd.com | Know For Sharing

কম্পিউটার অপারেটিং সিস্টেমের মৌলিক ধারণা সমূহ

হাই বন্ধুরা কেমন আছেন আপনারা সবাই?আশা করি সবাই ভালোই আছেন।ভালো আছেন ভালো থাকবেন এই প্রত্যাশাই  সবসময় করি।আমি আজ আপনাদের নতুন একটি বিষয় নিয়ে চলে আসলাম।আজ আমি আপনাদের মাঝে কম্পিউটার অপারেটিং সিস্টেমের মৌলিক ধারণা সমূহ নিয়ে আলোচনা করবো। আশাকরি সবাই মনোযোগ নিয়ে পড়বেন।তো চলুন এবার শুরু করা যাক।


অপারেটিং সিস্টেম কি:
অপারেটিং সিস্টেম হল কতকগুলো সফটওয়্যারের সমষ্টি যা কম্পিউটারের হার্ডওয়্যার ও সফটওয়্যারকে স্বয়ংক্রিয়ভাবে পর্যবেক্ষণ,নিয়ন্ত্রণ ও তত্ত্বাবধান ও সমন্বয় সাধন করে। অপারেটিং সিস্টেম কম্পিউটারের বিভিন্ন অংশের মধ্যে সমন্বয় সাধন করে কম্পিউটারের অ্যাপ্লিকেশন সফটওয়্যারগুলো সুন্দরভাবে পরিচালনা করে থাকে। অপারেটিং সিস্টেম ব্যবহারকারীকে কম্পিউটারের হার্ডওয়্যার ও সফটওয়্যারের মাঝে যোগসূত্র স্থাপন করতে সাহায্য করে। কোন প্রতিষ্ঠানা বা কোন কিছু পরিচালনা বা নিয়ন্ত্রণের জন্য একজন ব্যক্তি বা পরিচালকের প্রয়োজন তেমন কম্পিউটার পরিচালনার জন্যও অপারেটিং সিস্টেমের প্রয়োজন। একজন কম্পিউটার ব্যবহারকারী বিভিন্ন প্রকার সফটওয়্যার ব্যবহার করে বিভিন্ন প্রকার কাজ সম্পাদন করে থাকে,ওয়ার্ড প্রসেসিং, গ্রাফিক ডিজাই, ডাটাবেজ প্রোগ্রাম, ওয়েব ডিজাইন ইত্যাদি। আমরা যখন এসকল প্রোগ্রামের মাধ্যমে কাজ করি তখন এসকল প্রোগ্রামের বিভিন্ন সমস্যা সমাধানের জন্য অপারেটিং সিস্টেম কাজ করে। অপারেটিং সিস্টেম কম্পিউটার ব্যবহারকারী এবং হার্ডওয়্যারের মাঝে যোগসূত্র স্থাপন করে থাকে। কম্পিউটারের প্রধান অবকাঠামো বলতে হার্ডওয়্যারকেই বোঝায়। আর সফটওয়্যারকে সমস্যা সমাধানের মাধ্যম হিসেবে ব্যবহার করা হয়। কম্পিউটার ব্যবহারকারী নির্দেশনা অনুযায়ী হার্ডওয়্যারের মাধ্যমে সফটওয়্যারের সাহায্যে বিভিন্ন প্রকার সমস্যার সমাধান করে থাকে অপারেটিং সিস্টেম। অপারেটিং সিস্টেমের কাজ হল বিভিন্ন সফটওয়্যার পরিচালনার সময় কম্পিউটার হার্ডওয়ার কিভাবে কাজ করবে তার পর্যবেক্ষণ,নিয়ন্ত্রণ,তত্ত্বাবধান ও সমন্বয় সাধন করা। অপারেটিং সিস্টেম হল কন্ট্রোল প্রোগ্রাম।
আমরা জানি একটি কম্পিউটারে ইনপুট, প্রসেসিং ও আউটপুট ডিভাইসের সাথে অনেক ধরনের ডিভাইস সংযুক্ত থাকে। যেমন- কীবোর্ড, মাউস, প্রিন্টার, সিপিইউ, মনিটর, মডেম ইত্যাদি। এগুলোকে পরিচালনা বা নিয়ন্ত্রণের জন্য অনেকগুলো প্রোগ্রামের প্রয়োজন হয়। আর অপারেটিং সিস্টেম এগুলোকে স্বয়ংক্রিয়ভাবে পর্যবেক্ষণ,নিয়ন্ত্রণ ও তত্ত্বাবধান ও সমন্বয় সাধন করে থাকে। তাই বলা যায় অপারেটিং সিস্টেম হল কম্পিউটারের হার্ডওয়্যার ও সফটওয়্যারকে পর্যবেক্ষণ,নিয়ন্ত্রণ ও তত্ত্বাবধান করার জন্য কতগুলো প্রোগ্রামের সমষ্টি।

কয়েকটি অপারেটিং সিস্টেমের নাম হলঃ
Windows 95/98/200, Windows Vista, Windows Xp, Windows 7, Windows 8/8.1, Windows 10, Mac OS, Mos, Unix, Linux, Dos ইত্যাদি



অপারেটিং সিস্টেমের বিভিন্ন প্রকার গুরুত্ব বা উদ্দেশ্য নিচে আলোচনা করা হলঃ

১. প্রোগ্রাম নিয়ন্ত্রণ বা পরিচালনাঃ
অপারেটিং সিস্টেমের প্রধান কাজ হল কম্পিউটারের প্রোগ্রাম সমূহ সুন্দরভাবে নিয়ন্ত্রণ বা পরিচালনা করা। কম্পিউটারের বিভিন্ন প্রোগ্রাম বা সফটওয়্যার সমূহকে পরিচালনার জন্য যে সকল প্রোগ্রাম সমূহের প্রয়োজন অপারেটিং সিস্টেম তা সরবরাহ করে থাকে। কম্পিউটারের ইনপুট ও আউটপুট ডিভাইসগুলো নিয়ন্ত্রণ প্রোগ্রাম দ্বারা পরিচালিত হয় বলে ব্যবহারকারীর দেয়া উপাত্তের ভিত্তিতে কম্পিউটার আউটপুটে ফলাফল প্রদান করে থাকে।


২. ইনপুট ও আউটপুট প্রোগ্রামঃ
তথ্য উপাত্ত সমূহকে প্রক্রিয়াকরণ এবং আউটপুটে ফলাফল পাবার জন্য কম্পিউটারের ইনপুট/আউটপুট ডিভাইসের সাথে কেন্দ্রীয় প্রক্রিয়াকরণ অংশের সাথে কাজের সমন্বয় সাধন করে অপারেটিং সিস্টেমের ইনপুট ও আউটপুট প্রোগ্রাম। দ্রুত প্রক্রিয়াকরণ কাজ সম্পাদনের জন্য ইনপুট ও আউটপুট অংশগুলোর খোজ খবর রাখে এবং কোন রকম সমস্যা দেখা দিলে এ প্রোগ্রাম আউটপুট ডিভাইস মনিটরের মাধ্যমে ব্যবহারকারীকে সমস্যার কথা জানিয়ে দেয়।


৩. ফাইল সিস্টেম নিয়ন্ত্রণঃ
অপারেটিং সিস্টেম ফাইল সিস্টেমের নিয়ন্ত্রণ করে থাকে। কম্পিউটারে প্রোগ্রাম পরিচালনার সময় একজন ব্যবহারকারীকে বিভিন্ন রকম ফাইলে নতুন ফাইল তৈরি করা, ফাইলের তথ্য পরিবর্তন করা এবং ফাইলের তথ্যসমূহ মুছে ফেলার প্রয়োজন হতে পারে। অপারেটিং সিস্টেম কম্পিউটারের স্টোরেজ ডিভাইসের ফাইল সিস্টেমের তথ্য উপাত্ত সমূহ পর্যবেক্ষণ,নিয়ন্ত্রণ ও তত্ত্বাবধান ও সমন্বয় সাধন করে।


৪. ত্রুটি নির্ণয়ঃ
কম্পিউটারের ত্রুটি বিচ্যুতি নির্ণয়ের জন্য অপারেটিং সিস্টেম সর্বদা সজাগ থাকে। কম্পিউটার পরিচালনার ক্ষেত্রে বিভিন্ন ধরনের সমস্যার দেখা দিতে পারে এবং কম্পিউটার ব্যবহারকারীকে বিভিন্ন ধরনের সমস্যার সম্মুখীন হতে হয়। যেমম- কোন পোগ্রামে কোন সমস্যা দেখা দিতে পারে, মেমোরিতে ত্রুটি বিচ্যুতি দেখা দিতে পারে, ইনপুট বা আউটপুট ডিভাইসে সমস্যা দেখা দিতে পারে, প্রিন্টারের কাগজ বা কালি শেষ হয়ে কোন সমস্যা দেখা দিতে পারে। সকল সমস্যা অপারেটিং সিস্টেম মনিটরে লেখা প্রদর্শনের মাধ্যমে ব্যবহারকারীকে জানিয়ে দেয় এবং সমস্যা সমাধানের জন্য যাবতীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করে থাকে।


৫. সিস্টেম বণ্টনঃ
কম্পিউটারে যদি এক বা একাধিক ব্যবহারকারী বা এক বা একাধিক প্রোগ্রাম  এক সাথে চলমান থাকে,তবে কম্পিউটার সুষ্ঠুভাবে কাজ পরিচালনার জন্য সিস্টেমের বিভিন্ন অংশ সকলের মাঝে গুরুত্ব অনুসারে বণ্টন করে থাকে। অপারেটিং সিস্টেমকে বিভিন্ন সময় বিভিন্ন রকম বন্টনের কাজ সম্পাদন করতে হয়।


৬. একাউন্টিংঃ
অনেক সময় কম্পিউটার ব্যবহারকারী কি পরিমানে সিস্টেমের কোন কোন অংশ কতটুকু পরিমানে ব্যবহার করছে তা নির্ণয় করার প্রয়োজন হয়। আর এ ধরনের তথ্য উপাত্ত সংরক্ষণের কাজটিও মূলত অপারেটিং সিস্টেম করে থাকে।


৭. তত্ত্বাবধানঃ
অপারেটিং সিস্টেম মূলত তত্ত্বাবধানের কাজটি করে থাকে। অনেক সময় দেখা যায় যে একাধিক ব্যবহারকারী একটি সিস্টম ব্যবহার করে থাকে। তখন প্রত্যেক ব্যবহারকারী চায় তাদের প্রত্যেকের তথ্যকে অন্যের কাছ থেকে সরিয়ে  গোপন রাখতে। আর অপারেটিং সিস্টেম মূলত এ ধরনের সুযোগ সুবিধা দিয়ে থাকে। এছাড়া যখন একাধিক ব্যবহারকারী একই সিস্টেমে নানা রকমের একাধিক কাজ একই সাথে পরিচালনা করে,তখন একটি কাজ সম্পাদন করতে গিয়ে অপরটির সাথে যাতে কোনরুপ বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি না হয়, তা অপারেটিং সিস্টেম নিয়ন্ত্রণ করে থাকে।




অপারেটিং সিস্টেমের শ্রেণিবিভাগঃ

মেমোরি সংগঠন, বিভিন্ন প্রকার প্রোগ্রাম পরিচালনা, সেকেন্ডারি বা সহায়ক মেমোরির ওপর ভিত্তি করে অপারেটিং সিস্টেমগুলোকে কয়েকটি ভাগে ভাগ করা যায়, যথা-
১. ব্যাচ/অফ- লাইন মোড অপারেটিং সিস্টেম।
২. মাল্টিপ্রোগ্রামিং অপারেটিং সিস্টেম।
৩. মাল্টিপ্রসেসিং অপারেটিং সিস্টেম।
৪. টাইম শেয়ারিং অপারেটিং সিস্টেম।
৫. অনলাইন ইন্টার অ্যাকটিভ মোড অপারেটিং সিস্টেম।
৬. ভারচুয়াল স্টোরেজ/মেশিন অপারেটিং সিস্টেম।
৭. প্রকৃত সময় বা রিয়েল টাইম অপারেটিং সিস্টেম।
৮. ডিস্ট্রিবিউটেড অপারেটিং সিস্টেম।



বর্ণ ভিত্তিক অপারেটিং সিস্টেম:

বর্ণ ভিত্তিক অপারেটিং সিস্টেমে কীবোর্ডের সাহায্যে বিভিন্ন বর্ণ বা চিহ্ন টাইপ করে কোন কাজের জন্য কম্পিউটারকে নির্দেশ দেয়া হয়। নতুন প্রোগ্রাম ইন্সটল দেয়া থেকে শুরু করে, ডিস্ক ফরমেটিং, ফাইল ম্যানেজমেন্ট ইত্যাদি কাজ সম্পাদনের জন্য কীবোর্ডের বাটন বিভিন্ন বাটন চেপে কমান্ড দিয়ে কাজ করতে হয়। বর্ণ ভিত্তিক অপারেটিং সিস্টেমে কীবোর্ডের বাটনের বর্ণ বা চিহ্ন চেপে কমান্ড দিয়ে কম্পিউটারকে নির্দেশ প্রদান করতে হয়। এক্ষেত্রে সেই অপারেটিং সিস্টেমের জন্য যেই কমান্ডগুলো নিদিষ্ট করে দেয়া আছে সেই কমান্ডগুলোই প্রয়োগ করতে হয়। তবে এর কোন ব্যতিক্রম হলেই কমান্ড আর কাজ করবেনা। সে জন্য বর্ণ ভিত্তিক অপারেটিং সিস্টেমের কমান্ডগুলো মুখস্ত রাখতে হয়। বর্ণ ভিত্তিক অপারেটিং সিস্টেমে কম্পিউটারে নির্দেশ প্রদান করার জন্য মেনু বা পুল ডাউন কমান্ড থাকে না। বর্ণ ভিত্তিক অপারেটিং সিস্টেমর বুটিং এ কম সময় লাগে এবং এ ধনের অপারেটিং সিস্টেম সংরক্ষণে কম মেমোরি প্রয়োজন হয়। বর্ণ ভিত্তিক অপারেটিং সিস্টেমে দ্রুতগতিতে যেকোন কাজ সম্পাদন করা যায়।
বর্ণ ভিত্তিক অপারেটিং সিস্টেমের উদাহরণ হল-
Linux,Dos



চিত্র ভিত্তিক অপারেটিং সিস্টেমঃ
চিত্র ভিত্তিক অপারেটিং সিস্টেমে বিভিন্ন প্রকার আইকন, মেনু ও পুল ডাউন মেনু কমান্ড এবং মাউসের সাহায্যে কম্পিটারকে নির্দেশ প্রদান করা হয়। চিত্র ভিত্তিক অপারেটিং সিস্টেমের কমান্ডগুলো মুখস্ত করার প্রয়োজন হয় না। এ অপারেটিং সিস্টেমে বিভিন্ন প্রকার আইকন, মেনু ও পুল ডাউন মেনু কমান্ড এবং মাউসের পয়েন্টার দ্বারা কম্পিউটারকে নির্দেশ প্রদান করা হয়। এ অপারেটিং সিস্টেমে নতুন এপ্লিকেশন প্রোগ্রাম ইন্সটল থেকে শুরু করে, ডিস্ক ফরমেটিং, ফাইল ম্যানেজমেন্ট, তথ্য উপাত্ত সমূহ সংরক্ষণের যাবতীয় কাজগুলো বিভিন্ন প্রকার আইকন, মেনু ও পুল ডাউন মেনু কমান্ড এবং মাউসের পয়েন্টার দ্বারা কম্পিউটারকে নির্দেশ প্রদান করে করা হয়। চিত্র ভিত্তিক অপারেটিং সিস্টেম কম্পিউটারে সংরক্ষণের জন্য বেশি মেমোরির প্রয়োজন হয়। এবং এ অপারেটিং সিস্টেম বুটিং এ অনেক সময় নেয়।
চিত্র ভিত্তিক অপারেটিং সিস্টেমের উদাহরণ হল-
 Windows 95/98/200, Windows Vista, Windows Xp, Windows 7, Windows 8/8.1, Windows 10, Mac OS




এরকম নিত্য নতুন টিপস এবং ট্রিকস জানতে আমাদের ওয়েবসাইটের সাথেই থাকুন।আর কারো কোন বুঝতে সমস্যা হলে কমেন্ট করুন।আমি যথাসাধ্য বোঝানোর চেষ্টা করবো।
ধন্যবাদ সবাইকে।

Post a comment

0 Comments